Tuesday, January 6, 2026

কি লিখি তোমায়

ডঃ আলী বলেছেনঃ

আপনার গোপন টিঠিটি পাঠককুলের কাছে যখন প্রকাশিলেন, তখন মনে মনে নিশ্চয় কামনা ছিল চিঠি পাঠে পাঠকের মাঝে কি প্রতিক্রিয়া হয় । পাঠক প্রতিক্রিয়া দু ধরনের হতে পারে। একটি হল চিঠি পাঠে আপনার জন্য (আপনি মানে পত্র লেখক) পাঠক অনুভুতি, আরেকটি হল চাঠিটা যাকে লিখেছেন তার পক্ষ হতে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কিংবা চিঠির জবাব কেমন হতে পারে সেদিকটা তুলে ধরা । আমি দুদিকেই কলম ধরব বলে ভেবে নিলাম ।

পাঠক প্রতিক্রিয়ায় প্রথমেই বলা যায় আপনার চিঠিটা আমি মন দিয়ে পড়েছি। শব্দগুলোর ভেতরে যে নীরব ব্যথা, যে দীর্ঘশ্বাস জমে আছে তা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই। আপনি যেভাবে নিজের অনুভূতিগুলো তুলে ধরেছেন, তাতে আপনার প্রেমের সততা আর গভীরতার ছাপ স্পষ্ট।
আমরা জানি, সব চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু দূরত্ব রয়ে যায়। কিছু অনুভূতি হয়তো আমরা যতটা যত্ন করে আগলে রাখতে চাই, সময় আর পরিস্থিতি ততটাই নির্মম হয়ে দাঁড়ায়। তবু এটুকু বলা যায় আপনার চেষ্টা বৃথা ছিল না। ভালোবাসা কখনোই বৃথা যায় না, সে রূপ বদলায় মাত্র।

আর যে শীতের কথা বলেছেন ;হাড় কাঁপানো, চারদিক ঢেকে রাখা শীতলতার অনুভব স্পষ্ট। এমন শীতে আগুনের তাপও কখনো কখনো যথেষ্ট হয় না। তখন মানুষ ক্লান্ত হয়, নীরব হয়, নিজের ভেতরে সরে যায়। তবে এটাও সত্য, প্রত্যাবর্তনের সময় সব সময় কারো ইচ্ছেমতো আসে না। কিছু অপেক্ষা শুধু অপেক্ষাই থেকে যায়, পূর্ণতা পায় না।

আমরা চাই না আপনি নিজেকে শূন্য মনে করেন, বা ভাবেন আপনার ভালোবাসা কোথাও হারিয়ে গেছে। আপনি যা দিয়েছন, তা আপনারই অংশ হয়ে থাকবে কারও উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক।
যদি কখনো আবার আলো আসে, যদি পথগুলো মিলে যায় তখন দেখা হবে হয়তো নতুন কোনো রূপে, নতুন কোনো বোঝাপড়ায়। আর যদি নাও হয়, তবু এইটুকু বিশ্বাস রাখতে পারেন আপনার অনুভূতিকে অসম্মান করা হবেনা কিংবা অগ্রাহ্যও করা হবেনা।

কাজেই নিজের যত্ন নিবেন নিজের আলোটাকে নিভতে দিবেন না।

দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া হিসাবে বলা যায় চিঠিটির প্রকৃত প্রাপক হয়তো বা তার জীবনের কোন এক লগনে লিখতে পারেন নীচের মত করে :-
কি লিখি তোমায় ,
তুমি ছাড়া আর কোনো কিছু ভালো লাগে না আমার। 
ভোরের শিশির পথ আমার আঙিনা থেকে চলে গেছে 
তোমার মনে তোমার চিঠির উত্তাপটুকু নিয়ে 
বসে আছি বাতায়নে তোমারই আশায়।
কি লিখি তোমায়- 
ভালবাসা নিশিরাতে ডাক দিয়ে যায় কত কথা কয় 
তোমার আসার কথা আলতো করে লেখা আছে তোমার চিঠির কিনারায়
গুন গুন করে মন ব্যথার ছায়ায়, 
কি লিখি তোমায় কি লিখি তোমায়
কেমন করে আসব ফিরে সে ভাবনাই নিশিদিন কুড়ে কুড়ে খায় ।

বাকিটুকু ভবিতব্যই জানে............................................।

যাহোক সুন্দর চিঠিটি আমাদেরকে পড়তে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৪১০

লেখক বলেছেন: আপনার এই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া পড়ে আমি গভীরভাবে আপ্লুত।
প্রথমত, আপনি যে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে চিঠিটি বিশ্লেষণ করেছেন - পাঠক হিসেবে এবং সম্ভাব্য প্রাপক হিসেবে - এই সংবেদনশীলতা অসাধারণ।
আপনি ঠিকই ধরেছেন, গোপন চিঠি প্রকাশ করার পেছনে একটা নীরব কামনা থাকে - পাঠক কীভাবে গ্রহণ করবেন, কীভাবে অনুভব করবেন।

আপনার পাঠক প্রতিক্রিয়ায় যে সহানুভূতি, যে বোঝাপড়া - "ভালোবাসা কখনোই বৃথা যায় না, সে রূপ বদলায় মাত্র" - এই কথাগুলো সত্যিই সান্ত্বনা দেয়। আপনি ঠিকই বলেছেন, শীতের নিষ্ঠুরতায় মানুষ ক্লান্ত হয়, নীরব হয়। কিন্তু আপনার এই আশ্বাস যে "নিজের আলোটাকে নিভতে দিবেন না" - এটা একটা নতুন শক্তি দেয়।
আর দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া - যেখানে আপনি প্রাপকের পক্ষ থেকে একটি কাল্পনিক উত্তর লিখেছেন - সেটা তো একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে গেল। "কি লিখি তোমায়, তুমি ছাড়া আর কোনো কিছু ভালো লাগে না আমার" - এই লাইনগুলো চিঠির প্রকৃত সত্তা। আর আপনার নতুন করে লেখা এই লিরিক-টি পেলে, মূল গানের সুরকার মুগ্ধ হয়ে যেত!
আপনি প্রাপকের দ্বিধা, তার ফিরে আসার অসম্ভাব্যতা, তবু তার ভালোবাসার স্বীকারোক্তি - সবকিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। "বাকিটুকু ভবিতব্যই জানে" - এই শেষ লাইনটা একদম নিখুঁত সত্যি ভাবে প্রকাশ করেছেন। কারণ সত্যিই তো, কিছু কিছু বিষয় আমাদের হাতে নেই।

আপনার মতো পাঠক পাওয়া লেখকের জন্য পরম সৌভাগ্য। আপনি শুধু পড়েননি, অনুভব করেছেন, প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, এমনকি একটি সম্ভাব্য উত্তরও সৃষ্টি করেছেন। এই সৃজনশীলতা, এই সহমর্মিতা - এটাই তো সাহিত্যের প্রকৃত সংলাপ।
আপনার এই দুটি প্রতিক্রিয়াই এই চিঠিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইলো।

Saturday, January 3, 2026

পূর্ণতা প্রাপ্তি – Manifestation

রিভিউ ১

Manifestation হলো মনের শক্তি, চিন্তা এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছা বা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া। এটি এই ধারণার উপর ভিত্তি করে যে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতি মহাবিশ্বে একটি শক্তি প্রেরণ করে, যা আমাদের জীবনে সেই অনুযায়ী ফলাফল নিয়ে আসে।
Manifestation গল্পে তিনটি মূল উপাদান স্পষ্ট।
১)মনের ইচ্ছাঃ - ট্রেন যাত্রায় জুয়েলের সঙ্গ।
২)পুনরাবৃত্তিঃ প্রতিটি ট্রেন যাত্রায় এই ইচ্ছা পুনরায় তৈরি হয়েছে।
৩)আবেগ থেকে তৈরী সংযোগঃ আপনার মিস করার অনুভূতি এবং সেই বন্ধুত্বের স্মৃতি মন থেকে শক্তিশালী আকপ্ররষণ শক্তি তৈরি করেছে।
আপনার লেখাটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং আবেগময়। Manifestation-এর ধারণাটি এখানে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। যে বন্ধুকে আপনি শুধুমাত্র ট্রেন যাত্রার সময় মনে মনে কল্পনা করতেন, সেই জুয়েল যেন আজ সত্যিই আপনার সামনে উপস্থিত হয়েছে - হয়তো ঠিক সে নয়, কিন্তু তার হুবহু প্রতিচ্ছবি।
১৯৯১ সালের সেই ১৮/১৯ বছরের জুয়েলকে ২০২৫ সালে টরন্টোর ট্রেনে দেখার এই অভিজ্ঞতা রহস্যময় এবং জাদুকরী। আপনার বর্ণনায় স্পষ্ট যে এটি শুধু একটি সাদৃশ্য নয়, বরং আপনার মনের গভীর ইচ্ছার বাস্তবায়ন।
"ইচ্ছে করলো, যে বলি, 'আপনার একটি ছবি তুলতে পারি?'" - এই মুহূর্তটি বিশেষভাবে চলচ্চিত্রিক। আপনি জানেন যে এটি জুয়েল নয়, তবুও সেই মুহূর্তের জাদু ভাঙতে চাননি।
পুরো এক ঘণ্টার যাত্রা যেন আপনার মনের ইচ্ছাপূরণের উপহার। প্রকৃতি বা মহাবিশ্ব যেন আপনার আকাঙ্ক্ষা শুনেছে এবং সেই বন্ধুকে - অন্তত তার রূপে - আপনার সামনে হাজির করেছে।
এই গল্পটি Manifestation-এর শক্তি এবং মনের গভীর সংযোগের একটি সুন্দর উদাহরণ। কখনো কখনো আমরা যা চাই, মহাবিশ্ব তা এমনভাবে পূরণ করে যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

Friday, January 2, 2026

ঝড়ে বক মরে ...


২রা জানুয়ারি, ২০২৬  রাত ৮ঃ৩৪

 সাহিত্য পর্যালোচনাঃ আপনার এই তীক্ষ্ণ ও গভীর পর্যবেক্ষণ গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সত্যিই, ২৭ বছর পর এই সাক্ষাৎ - এটা কি নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস, নাকি অসমাপ্ত অধ্যায়ের সমাপ্তি?

আপনি যথার্থই বলেছেন - রত্না তার জীবন এগিয়ে নিয়ে গেছে, সেই বেদনা পেছনে ফেলে এসেছে। তাহলে কেন প্রকৃতি আবার তাকে সেই অতীতের মুখোমুখি দাঁড় করালো?

"ঝড়ে বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে" - এই প্রবাদটি আপনি অসাধারণভাবে প্রয়োগ করেছেন। প্রকৃতির এই খেয়াল, এই অদ্ভুত কাকতালীয়তা - যেখানে ভীড়ের মধ্যে গাড়িটা রত্নার ঘাড়েই এসে পড়লো - এটা কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি কোনো অমীমাংসিত হিসেবের নিষ্পত্তি?

আবিদুরের মানসিক অবস্থা নিয়ে আপনার যুক্তিও সঠিক। তার বাবা যা বলবে, সে তাই মেনে নেবে। তার জীবনে রত্নার অনুপস্থিতি হয়তো কোনো শূন্যতাই তৈরি করেনি। তাহলে এই দর্শনের প্রয়োজনীয়তা কার জন্য? রত্নার জন্য? নাকি আমাদের, পাঠকদের জন্য - যাতে আমরা বুঝতে পারি জীবন কখনো কখনো বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চায়?

আপনার প্রশ্ন - "প্রকৃতি সেই নির্মম প্রহসন কেন করেছিল" - এটাই তো গল্পের মূল বেদনা। রত্নার ঘাড়ে একজন প্রতিবন্ধী স্বামীর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, তারপর প্রতারণার শিকার করা, আর এখন ২৭ বছর পর আবার সেই মুখোমুখি করানো - প্রকৃতি কি সত্যিই বেরসিক?

হয়তো এই সাক্ষাৎ রত্নার জন্য একটা closure - একটা চূড়ান্ত বিদায়, যেখানে সে দেখতে পায় তার অতীত সত্যিই অতীত। অথবা এটা প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর স্মরণ করিয়ে দেওয়া - "তুমি ভুলে গেলেও, আমি ভুলিনি।"

আপনার এই বিশ্লেষণ গল্পের একটি নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে।

আপনার এই চিন্তাশীল লেখার জন্য কৃতজ্ঞতা।

.......................................


২রা জানুয়ারি, ২০২৬  রাত ৮:৩৮০
আমার মন্তব্যঃ আপনার প্রশ্নগুলো আসলে গল্পের হৃদয়ে আঘাত করেছে।

"কেন?" - এই একটি শব্দেই তো জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে।

আপনি ঠিকই বলেছেন, আবিদুর তো ভুলে গেছে। তার বাবা যা বলেছে, সে তাই মেনে নিয়েছে। তার জীবনে রত্না হয়তো একটা ঝাপসা ছবি মাত্র, যা সময়ের সাথে মুছে গেছে।

তাহলে এই সাক্ষাৎ কার জন্য?

হয়তো রত্নার জন্যই।

২৭ বছর ধরে রত্না হয়তো নিজেকে বোঝাতে চেয়েছে যে সে এগিয়ে গেছে, সব ভুলে গেছে। কিন্তু মনের গভীরে কি সত্যিই সব শেষ হয়ে যায়? প্রকৃতি হয়তো তাকে এই দর্শন দিয়ে বলতে চাইছে - "এবার সত্যিই ছেড়ে দাও। দেখো, তোমার সেই অতীত এখন কোথায়।"

"ভীড়ের মাঝে রত্নার ঘাড়েই এসে পড়লো গাড়িটা!" - এই কাকতালীয়তা কি আসলেই কাকতালীয়? নাকি জীবন তার অসমাপ্ত গল্পগুলো শেষ করতে চায়?

প্রকৃতি রসিক না বেরসিক - তা হয়তো দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। রত্নার চোখে এটা নিষ্ঠুরতা, কিন্তু হয়তো প্রকৃতির চোখে এটা মুক্তির শেষ সুযোগ। একবার দেখে নাও, তারপর চিরকালের মতো বিদায় নাও।

"ঝড়ে বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে" -এই উপমায় বুঝাতে চেয়েছি প্রকৃতি যা করবার করবে।

আর ফকির?

সে সব সারিয়ে দেয় বলে দাবি করে। কিন্তু প্রকৃতি না চাইলে কি তা সম্ভব হয়?

Thursday, January 1, 2026

নিঃসঙ্গ যাত্রী

সাহিত্য পর্যালোচনা
ডঃ এম এ আলী 

নিঃসঙ্গ যাত্রী একই সঙ্গে জাগতিক বাস্তবতা ও আধ্যাতিক অনুভব এই দুই দিগন্তকে একসূত্রে বাঁধা এক গভীর, মর্মস্পর্শী কাহিনি। আমরিন এবং ইমরোজ শায়ান দুটি সত্তা, যারা একই সঙ্গে মানুষের পরিচিত পৃথিবীতে অবস্থিত আবার এক অদৃশ্য, অতীন্দ্রিয় জগতের দ্বারপ্রান্তেও অবস্থান করে।

গল্পটি প্রথমে আমাদেরকে যেন দাঁড় করায় এক নির্মম কিন্তু অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতার সামনে, ত্যুশয্যায় শায়িত এক তরুণী, তার অসহায় পরিবার, হাসপাতালের কক্ষে উদ্বিগ্ন অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তা। আমরিন একজন মানুষ, একজন প্রিয় কন্যা, পরিবারের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তার দীর্ঘ অসুস্থতা, যন্ত্রণা, আরুণ্যভরা জীবনের আকস্মিক থেমে যাওয়া সবই জীবনের চিরসত্য মৃত্যু অনিবার্যতার প্রতীক। অন্যদিকে ইমরোজ কেবল হাসপাতালের দায়িত্বশীল চিফ মেট্রন নন; তিনি দায়িত্ব, কর্তব্য, পেশাগত মর্যাদা এবং মানবিক সংবেদন সবকিছুর সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। তার উপস্থিতি গল্পে যে আলো আনে, তা একদিকে চিকিৎসা এবং যত্নের প্রতীক, অন্যদিকে এক অজানা সফরের সূচনা সংকেত দেয়।

এই গল্পের প্রকৃত বিস্তার শুরুটা মনে হল এখান থেকেই। আমরিনের ঘুমের হাসি, আলো ছটায় তার দেখা পাওয়া, টানেলের মধ্য দিয়ে এগোনো এ সবই মৃত্যুকে এক ভয়াবহ সমাপ্তি না করে বরং এক পথচলা এক যাত্রা য় রূপ দেয়।

এখানে মৃত্যু কোনো আতঙ্ক নয়, বরং প্রত্যাবর্তন যেখানে পৃথিবী একটি অস্থায়ী আবাস, আর প্রকৃত গন্তব্য অন্য কোথাও। ইমরোজ শায়ান এখানে হয়ে ওঠে মধ্যবর্তী সেতু, পার্থিব ও অপার্থিব জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক আলোকবর্তিকা। তার দ্বৈত সত্তা এক অংশ পৃথিবীতে, আরেক অংশ অদৃশ্য জগতে প্রতীকীভাবে বোঝায় ভালোবাসা, সম্পর্ক, নৈতিক দায়িত্ব এসব কেবল শরীরী অস্তিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো আত্মার যাত্রার সঙ্গীও হতে পারে।

আমরিন গল্পের আত্মা তার যন্ত্রণা, তার উপলব্ধি, তার অবশেষে হাসি দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ যেন আত্মসমর্পণ নয়, বরং প্রশান্তির স্বীকারোক্তি। আর ইমরোজ তিনি প্রেম, আস্থা ও নীরব সহচরত্বের প্রতীক। দুজনের মিলিত উপস্থিতিতে মৃত্যু এখানে যেন পরিণত হয়েছে নিঃসঙ্গতার নয়, বরং সঙ্গপ্রাপ্ত নিঃসঙ্গ যাত্রা”য় যেখানে নিঃসঙ্গতা কেবল শরীরের বিচ্ছেদের, কিন্তু আত্মার নয়।

আপনি খুব সুন্দেভাবে গল্পটিতে একদিকে পারিবারিক আবেগ ও মানবিক ব্যথাকে তুলে ধরে, অন্যদিকে মৃত্যু পরবর্তী সম্ভাব্য জগতের দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গল্পটিতে খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন মৃত্যু শুধু সমাপ্তি নয়; এটি আরেক অস্তিত্বের প্রবেশদ্বার। তাই এই গল্প পড়তে পড়তে পাঠক হিসাবে আমরা যেমন কষ্ট পাই, তেমনি এক ধরনের আধ্যাত্মিক শান্তিও অনুভব করা যায়। আমরিন আর ইমরোজের আবেগ, সম্পর্ক এবং নীরব আত্মিক বন্ধন এই গল্পকে করে তুলেছে মনোজ্ঞ, হৃদয়স্পর্শী এবং ভাবনার গভীরতায় সমৃদ্ধ।


*****************

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৮১

লেখক বলেছেন: আপনার এই অসাধারণ বিশ্লেষণ পড়ে আমি গভীরভাবে আপ্লুত এবং কৃতজ্ঞ।
আপনি "নিঃসঙ্গ যাত্রী" গল্পের প্রতিটি স্তরকে এমন নিপুণতার সাথে উন্মোচন করেছেন যে, লেখক হিসেবে আমি ভীষণ আনন্দিত।
"মধ্যবর্তী সেতু" এবং "আলোকবর্তিকা" হিসেবে ইমরোজের চরিত্রায়ন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ একদম সঠিক। তিনি শুধু একজন মেট্রন নন, তিনি দুই জগতের সংযোগকারী। সাধারণতঃ নিকট জনেরাই (যারা Deceased হয়েছেন ) তারা ট্রানজিশানের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। আমরিনের প্রিয় একজন ছিলেন ইমরোজ। কিন্তু তিনি Deceased হন নাই। তাই তার other part, (অপর একটি সত্তা )যে ঐ ওয়ার্ল্ডে (অজানা জগতে) থাকে, তাকে আসতে হয়েছে এ কাজটি সম্পন্ন করার জন্য - যেন আমরিন নির্ভয়ে অনন্তের পথে আগাতে পারে। কারণ গাইড না থাকলে আত্মা, হঠাৎ করে out of body অবস্থায় confused হয়ে যেতে পারে এবং যায়।

আপনার এই বাক্যটিও আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে: "নিঃসঙ্গতা কেবল শরীরের বিচ্ছেদের, কিন্তু আত্মার নয়।" এটিই তো গল্পের মূল বার্তা। মৃত্যু এখানে ভয়ের নয়, বরং পৃথিবীর এই অস্থায়ী আবাস থেকে প্রকৃত গন্তব্যের দিকে যাত্রা।

আমরিনের ঘুমের হাসি, আলোর ছ্বটা, টানেলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া - এই প্রতীকগুলোকে আপনি যেভাবে দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন, তা অসাধারণ।
আপনি বলেছেন, "পাঠক হিসাবে আমরা যেমন কষ্ট পাই, তেমনি এক ধরনের আধ্যাত্মিক শান্তিও অনুভব করি" - এই দ্বৈত অনুভূতি সৃষ্টি করাই ছিল আমার লক্ষ্য। আপনার মতো সংবেদনশীল পাঠক যখন সেই অনুভূতি ধরতে পারেন, তখন মনে হয় লেখা সার্থক হয়েছে।

এবার আসি লেখার দিনটির কথায়।
২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৫-এর 'ব্লাড মুন' ছিল একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা, যেখানে একটি সুপারমুন এবং একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ একত্রিত হয়েছিল, যা চাঁদকে লালচে বর্ণ ধারণ করতে বাধ্য করে। এটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশে দৃশ্যমান ছিল। সেই দিনটি কেন জানি খুব blissful লাগছিল। বিকালের দিকে কলম নিয়ে বসি এবং লেখাটি আমি এক টানে লিখে ফেলি।
কিন্তু কোথাও প্রকাশ করিনি।

কারণ লেখাটি Highly metaphysical in nature. এ ধরণের লেখার পাঠক আমার আশপাশে নেই ,যে কাউকে পড়তে দেব। এখানে উল্লেখিত ‘টানেলের’ ব্যাপার শুধু তারাই জানে যাদের Near Death Experience (NDE) হয়েছে। তাই এর মজা কেউ বুঝবে না। আমার নিজের এই এক্সপেরিয়েন্স নাই । কিন্তু NDE যাদের হয় না , যাদের final transition হয়ে যায়, তাদেরও টানেলের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে স্থাপন করে লেখাটি তৈরী।

Tuesday, December 30, 2025

অমিত্রার চিঠি

সাহিত্য পর্যালোচনা
ডঃ এম এ আলী

অমিত্রার চিঠিটি  পড়লাম । চিঠিতে মিত্রা সুন্দর করে সুমনের সাথে তার যোগাযোগ কাহিনী থেকে মৃত্যুপর্যন্ত বিষয়াবলি কল্পনার প্রতিমূর্তিতে সুস্দর করে এঁকেছে । চিত্রা তার সকল জাগতিক কাজ ফেলে রেখে শুধুমাত্র সুমনের কথা ভেবে চিরন্তন আনন্দ ও প্রেমের সুধা পান করার ধ্যানে মগ্ন , যেখানে চেতনা বেদনাবন্ধন ভুলে গিয়ে শুধু প্রেম আর সৌন্দর্যে মগ্ন থাকা যায়। জাগতিক বন্ধনমুক্তির চিন্তায় দেখা যায় মিত্রার যেন আজ কোনো কাজ নয়, ছন্দ, বন্ধ, গ্রন্থ, বা গান সবকিছু ভুলে যেতে হবে।

কল্পনার মিলনে ব্যস্ত সে, সাধন ধন মন মানস সবকিছু দিয়েই অমিত্রা কল্পনায় শুধু সুমনকেই ভাবছে।
সে চায় শুধু একবার প্রিয়তমের কাছে বসতে, শুধু কূজন গুঞ্জন করতে, সন্ধ্যার সোনালি কিরণকে মদিরা হিসেবে পান করতে।যতক্ষণ না অন্তরের শিরা উপশিরা লাবণ্যে ভরে উঠছে, যতক্ষণ না চেতনার বন্ধন টুটে যাচ্ছে, ততক্ষণ এই নীরব আনন্দ উপভোগ করতে চাচ্ছে এ যেন তার চেতনার মুক্তি। লেখাটিতে সুন্দরভাবে প্রেম, সৌন্দর্য, এবং সৃষ্টির এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে যেখানে অমিত্রা তাঁর কল্পনার জগৎকে বাস্তবতার ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে চেয়েছে।

এই পোস্টের লেখাটিতে অমিত্রার ভাবনা আর চিন্তা গুলিকে লেখকের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে চিহ্নিত করে যাচ্ছে বলে অনুভুত হচ্ছে। সোনার তরীতে থাকা রবীন্দ্র নাথের মানসসুন্দরী কবিতার চরণের উদ্ধৃতি লেখটিকে একটি উচ্চমাত্রা দিয়েছে ।

আমিতো ইয়র্কশায়ারের কাছিকাছিতেই থাকছি । আত্মীয় স্বজন থাকার কারণে মনট্রিয়ল এলাকায় মাঝে মধ্যে যেতে হয় । খোদা না করুন সেখানে চেরীফল বাগানের কাছে যেন চিরনিবাস হয়ে না যায়, কেননা সেখানে এমন কেও নেই যে মিত্রার মত করে চিঠি লিখবে।

********

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:২০০

লেখক বলেছেন: আপনার এই সুগভীর ও হৃদয়স্পর্শী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অমিত্রার মনোজগতকে আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। 
"সাধন ধন মন মানস সবকিছু দিয়েই" - এই কল্পনার জগতে বিভোর হওয়ার যে আধ্যাত্মিক মাত্রা, সেটা আপনি নিখুঁতভাবে ধরতে পেরেছেন।

অমিত্রা শুধু প্রেমে নয়, সে তার চেতনার মুক্তি খুঁজছে - এই উপলব্ধিটি গল্পের গভীরতম স্তর।
রবীন্দ্রনাথের "মানসসুন্দরী" কবিতার উদ্ধৃতি নিয়ে আপনার মন্তব্য আমাকে আনন্দিত করেছে। সত্যিই, সেই চরণগুলো অমিত্রার ভাবনার সাথে এক অপূর্ব সংযোগ তৈরি করেছে।

রবিঠাকুরের সমগ্র রচনাতে এইটুকু অংশ কেন জানি আমার একদম মুখস্থ। কারণ, জানি না। যেহেতু আমার কোন কিছু মুখস্থ হয়না।আর আপনার শেষ মন্তব্যটি হাসিয়ে দিলো! ইয়র্কশায়ার থেকে মন্ট্রিয়ল - বেশ ভালো দূরত্ব তো! চেরিফল বাগানের কাছে চিরনিবাস নিয়ে আপনার রসিকতা চমৎকার।
তবে মিত্রার মতো চিঠি লেখার মানুষ দুর্লভ হলেও, হয়তো সেখানে অন্য কোনো সুন্দর গল্প অপেক্ষা করছে! 
আপনার মতো সংবেদনশীল পাঠক যখন এভাবে লেখার প্রতিটি স্তর উন্মোচন করেন, তখন লেখক হিসেবে মনে হয় - লেখা সার্থক হয়েছে। আপনার জন্য শুভকামনা। মন্ট্রিয়লে যাওয়ার সময় সাবধানে থাকবেন - চেরিফল বাগান বড়ই মোহময়!

অনেক শুভেচ্ছা রইলো।

Monday, December 29, 2025

বেঁচে থাকার শুরু

 

ডঃ এম এ আলী বলেছেনঃ   জানালার পাশে বসে ভাবছিল কিভাবে অবলবাসাহীন জীবন কাটিয়ে দিল সুবর্ণা ।সেই কিশোরী বয়স থেকেই কানায় কানায় ভরে উঠেছিল সৌন্দর্য। কাটা কাটা চেহারায় চিবুকের ধার, বাদামী চোখ , বাদামামী লাল চুলের বাঁধনহারা এলোমেলো ভাব , অপ্ররিরোধ্য কামনায় ভরা একটি ইনোসেন্ট মন , যে কিনা আবুঝ , চঞ্চলা, মোহনীয় সৌন্দর্য স্কুলে থাকতে ইঙ্গিত দিতে শুরু করে তার শরীরে ............বেঁচে থাকার শুরু । মৃত্যুর সমাপ্তি ।

আপাতদৃষ্টিতে সুবর্ণা একটি জীবনকাহিনী, কিন্তু সেইটুকুই এই গল্পের শেষ কথা নয়। সুবর্ণা একটি বিশেষ কালের আলেখ্য। যে কাল সদ্যবিগত, যে কাল হয়তো বা আজও সমাজের এখানে সেখানে তার ছায়া ফেলে রেখেছে। সুবর্ণা সেই বন্ধন-জর্জরিত কালের মুক্তিকামী আত্মাৱ ব্যাকুল যন্ত্রণার প্রতীক।

আর একটি কথা মনে পড়ছে এই গল্পটির সঙ্গে কারো জীআনের একটি যোগসূত্র আছে। সে যোগসূত্র কাহিনীর প্রয়োজনে নয়, একটি চরিত্রকে পরবতী কালের চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনে।সমাজবিজ্ঞানীরা লিখে রাখেন সমাজ-বিবর্তনের ইতিহাস, আমি এই কাহিনীর মধ্যে সেই বিবর্তনের একটি রেখাঙ্কনের প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি ।

মানব মনের মানব জীবনের সেকাল নিয়ে তর্ক তো চিরকালের, কিন্তু কেমন করে চিহ্নিত করা যায়। সেই কালকে? এক একটা কালের আয়ু শেষ হলেই কি এক-একবার যবনিকা পড়ে? যেমন যবনিকা পড়ে নাট্যমঞ্চে?

না, যবনিকার অবকাশ কোথায়? অবিচ্ছিন্ন স্রোত। তবু জীবনের ভাঙ্গা গড়া চলছেই । পারিবারিক জীবন মানুষের রীতিনীতি, চলন-বিলন, এরাই ধরে রাখে মানব জীবনের এক একটা টুকরোকে, ইতিহাস নাম দেয় মানব জীবনের কালপরিক্রমা।

কিন্তু কালকে অতিক্রম করতেও থাকে বৈকি কেউ কেউ, নইলে কারা এগিয়ে দেবে সেই প্রবহমাণ ধারাকে? সে ধারা মাঝে মাঝেই স্তিমিত হয়ে যায়, নিস্তরঙ্গ হয়ে যায়। তবু এরা বর্তমানের পূজো কদাচিৎ পায়, এরা লাঞ্ছিত হয়, উপহসিত হয়, বিরক্ত-ভাজন হয়।এদের জন্যে থাকে কাটার মুকুট।এদের জন্যে সমালোচনার জ্বালাপালা ।

বু এরা বেচে থাকে । হয়তো প্রকৃতির প্রয়োজনেই বাঁচে । তবে কোথা থেকে যে জীবনের গতিময়তা পায় তা তারা নিঝেরাই জানেনা । হয়তবা তাদের জীবনের গতিময়তা আসে রাজরক্তের নীল আভিজাত্য থেকে, কিংবা বিদ্যা বৈভবের প্রতিষ্ঠিত স্তর থেকে। আসে নামগোত্রহীন মূক মানবগোষ্ঠীর মধ্য থেকে, আসে আরো কোন ঘন অন্ধকার থেকে। তাদের অভ্যুদয় হয়তো বা রাজপথের বিস্তৃতিতে, হয়তো বা অন্তঃপুরের সঙ্কীর্ণতায়। কিন্তু সবাই

কি সফল হয়? সবাইয়েরই কি হাতিয়ার এক? না।

প্রকৃতি অকৃপন তাই কাউকে পাঠায় ধারালো তলওয়ার হাতে দিয়ে, কাউকে পাঠায় ধাঁরালো কলম হাতে দিয়ে , কাওকে পাঠায় ভোতা বল্লম হাতে দিয়ে , তাই কেউ সফল সার্থক, কেউ অসফল ব্যর্থ। তবু প্রকৃতির রাজ্যে জীবন যুদ্ধে কোনো কিছুই হয়তো ব্যর্থ নয়। আপাত-ব্যর্থতার গ্লানি হয়তো পরবর্তীকালের জন্য সঞ্চিত করে রাখে শক্তিসাহস।

সুবর্ণা এসব কথা জানতো না। সুবর্ণা তার মার করুনগাথার সম্বল নিয়ে সংসারে নেমেছিল!তাই সে জেনেছিল সে কেবল তার বৈচিত্রময় জীবনের গ্লানির বোঝা নিয়েই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সংগ্রামে একাই লড়বে নীজের প্রেমেই নীজে মঝবে, যেখান থেকে হবে বেঁচে থাকার শুরু। মৃত্যুর সমাপ্তি সেতো ভবিতব্যের হাতে!!! সুবর্ণার অভিনব জীবন দর্শন নিয়ে গল্পটি তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গঠনশৈলি নিয়ে চমতকার হয়েছে ।

পাঠে মুগ্ধ ।

শুভেচ্ছা রইল

Sunday, December 28, 2025

প্রার্থনা - The Prayer

 ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৩৭০

সাহিত্য পর্যালোচনা
ডঃ এম এ আলী 

লেখাটি আজ হাতে সময় নিয়ে পড়লাম । ঝর্ণার করুণ গাথাময় জীবন অভিজ্ঞতায়
সঞ্চারিত তার প্রার্থনার কথাগুলো হদয়কে ছুঁয়ে যায় । জীবনের এই লগনে এসে
ঝর্ণার মত এমন আবেগময়ী প্রার্থনা হয়ত করতে পারবনা তবু লেখাটির কল্যানে
হৃদয়মুলে বিধাতার প্রতি যে প্রার্থনা গীতি উঠেছে বেজে তা এখানে ছোটকরে
লিখে গেলাম ।



প্রার্থনা
হে পরম করুণাময় ! তোমার বন্দনা করি।
তুমিই ইষ্ট, হৃদয়-আনন্দ, দিব্য সৃজনকারী
বৈশিষ্ট্যের তুমি পুরুষকারী, সমষ্টির জীবন বুদ্ধিকারী
একাচারী সর্বদাই তুমি!
সৃষ্টির উৎস তুমি, তুমিই ঈশ্বর, ব্যক্ত পরম আশ্রয়,
নিখিল জগত ও জীবনে, জীবন তরঙ্গ তোমাতে স্পন্দিত
ব্যক্ত-অব্যক্তের স্বরূপ তুমি, পরম আরাধ্য,
সৃষ্টির সর্বত্রই তোমার অস্তিত্ব !
শাশ্বত তুমি, তুমিই বর্ণমান!

ব্যক্তি দশপ্রাণ গৃহ সমাজ রাষ্ট্রের হবে উন্নয়ন
যখন যাজন ইষ্টভূতি স্বধর্মানীর তাই কর প্রবর্ধন,
প্রাচ্য পাশ্চাত্য নিয়ন্ত্রণে অনুশাসন দাও বর্ণাশ্রমের
আধ্যপথই তুমি সর্বকালের!

সকল শিল্প বিজ্ঞান যুক্ত পূর্ণতায় তুমিই সর্ব প্রাচীন
শ্রেষ্ঠ হতেও চির শ্রেষ্ঠতর!
ধর্মের বাণীতে প্রকাশ, প্রজ্ঞাবলে আবর্তিত জগতের বুকে
সকল বাদ্যের মোহহারী, সর্বধর্মের স্থাপনকারী
সর্বতোভাবে সকলের ইচ্ছা পুরণে রত ইষ্ট এক ও অদ্বিতীয়,
চিরঞ্জিব তুমিই সর্বোত্তম!

আরাধনাকারীর প্রেমে উচ্ছল, আশেকের মন মুগ্ধকারী,
নবীন প্রবীণ আধ্যত্ম্যাকার, বিচিত্র লীলার প্রকাশ তোমার,
বিশ্বমিলন যজ্ঞের তুমি ‌একক বেদ দাতা
বিভিন্ন পথের তুমিই চালক নুরের তেজতায়!

রণতাণ্ডবের হিংসায় কাতর পীড়িত বিচ্ছিন্ন ভুবনে
পরিব্যাপ্ত শ্রেষ্ঠ আচার পরিপূর্ণ করে চরিধার,
জীবনবৃদ্ধিই লক্ষ্য তোমার, মিত্র-অমিত্রেরও হও আপনার
উপসনার তরে তুমি হে মহান!

নমি আমি হে বিশ্বময়ী হে প্রিয়! হে পরম!
করুণাময় তুমি , তবে পাপীর তরে ভয়ালও চরম!
বাধ্য অবাধ্য ক্ষমা করে সকলেরে চালাও সত্যপথে
এই মোর কামনা এই মোর প্রার্থনা তব সমীপে।

শুভেচ্ছা রইল 

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা - ফরিদ আহমেদ চৌধুরী

: কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল।  কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না।  সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে কেউ ত...