লেখাটি আজ হাতে সময় নিয়ে পড়লাম । ঝর্ণার করুণ গাথাময় জীবন অভিজ্ঞতায়
সঞ্চারিত তার প্রার্থনার কথাগুলো হদয়কে ছুঁয়ে যায় । জীবনের এই লগনে এসে
ঝর্ণার মত এমন আবেগময়ী প্রার্থনা হয়ত করতে পারবনা তবু লেখাটির কল্যানে
হৃদয়মুলে বিধাতার প্রতি যে প্রার্থনা গীতি উঠেছে বেজে তা এখানে ছোটকরে
লিখে গেলাম ।
প্রার্থনা
হে পরম করুণাময় ! তোমার বন্দনা করি।
তুমিই ইষ্ট, হৃদয়-আনন্দ, দিব্য সৃজনকারী
বৈশিষ্ট্যের তুমি পুরুষকারী, সমষ্টির জীবন বুদ্ধিকারী
একাচারী সর্বদাই তুমি!
সৃষ্টির উৎস তুমি, তুমিই ঈশ্বর, ব্যক্ত পরম আশ্রয়,
নিখিল জগত ও জীবনে, জীবন তরঙ্গ তোমাতে স্পন্দিত
ব্যক্ত-অব্যক্তের স্বরূপ তুমি, পরম আরাধ্য,
সৃষ্টির সর্বত্রই তোমার অস্তিত্ব !
শাশ্বত তুমি, তুমিই বর্ণমান!
ব্যক্তি দশপ্রাণ গৃহ সমাজ রাষ্ট্রের হবে উন্নয়ন
যখন যাজন ইষ্টভূতি স্বধর্মানীর তাই কর প্রবর্ধন,
প্রাচ্য পাশ্চাত্য নিয়ন্ত্রণে অনুশাসন দাও বর্ণাশ্রমের
আধ্যপথই তুমি সর্বকালের!
সকল শিল্প বিজ্ঞান যুক্ত পূর্ণতায় তুমিই সর্ব প্রাচীন
শ্রেষ্ঠ হতেও চির শ্রেষ্ঠতর!
ধর্মের বাণীতে প্রকাশ, প্রজ্ঞাবলে আবর্তিত জগতের বুকে
সকল বাদ্যের মোহহারী, সর্বধর্মের স্থাপনকারী
সর্বতোভাবে সকলের ইচ্ছা পুরণে রত ইষ্ট এক ও অদ্বিতীয়,
চিরঞ্জিব তুমিই সর্বোত্তম!
আরাধনাকারীর প্রেমে উচ্ছল, আশেকের মন মুগ্ধকারী,
নবীন প্রবীণ আধ্যত্ম্যাকার, বিচিত্র লীলার প্রকাশ তোমার,
বিশ্বমিলন যজ্ঞের তুমি একক বেদ দাতা
বিভিন্ন পথের তুমিই চালক নুরের তেজতায়!
রণতাণ্ডবের হিংসায় কাতর পীড়িত বিচ্ছিন্ন ভুবনে
পরিব্যাপ্ত শ্রেষ্ঠ আচার পরিপূর্ণ করে চরিধার,
জীবনবৃদ্ধিই লক্ষ্য তোমার, মিত্র-অমিত্রেরও হও আপনার
উপসনার তরে তুমি হে মহান!
নমি আমি হে বিশ্বময়ী হে প্রিয়! হে পরম!
করুণাময় তুমি , তবে পাপীর তরে ভয়ালও চরম!
বাধ্য অবাধ্য ক্ষমা করে সকলেরে চালাও সত্যপথে
এই মোর কামনা এই মোর প্রার্থনা তব সমীপে।


No comments:
Post a Comment