Showing posts with label ইরানি মশা. Show all posts
Showing posts with label ইরানি মশা. Show all posts

Wednesday, March 18, 2026

ইরানি মশা -ডঃ এম এ আলী

 
 ইরানী মশা -ডঃ এম এ আলী রচিত কবিতার কিছু অংশঃ

'ধরায় এসেছিল এক সত্য, শান্ত দৃপ্ত কণ্ঠে 
বলেছিল আলো জ্বলে এক মহান সত্যে
 সূর্য ওঠে আর ডুবে তাঁরই হুকুমে প্রতিদিন 
তুমি কি পারো বদলাতে তার পথ চলন ?

নীরব হলো গর্ব, থমকে গেল তার মুখ 
মিথ্যার প্রাসাদে লাগল ভাঙনের দুখ 
অহংকারের মুকুট পড়ল ধুলার তলে
ক্ষুদ্র এক মশাতে হার মানে তুমুলে

শিখিয়ে গেল ইতিহাস নীরব ভাষায় 
উঁচু নয় সে, যে থাকে দম্ভের আশায় 
বিনয়ে যে নত, সে-ই হয় তত মহান 
ন্যায়ের পথেই জ্বলে জীবনের প্রাণ।

জুলুমের রাত যতই দীর্ঘ হোক না কেন
সত্যের সূর্য নিশ্চয়ই উঠবেই আবার যেন 
মিথ্যার আঁধার ভেঙে আলো করবে জয় 
সত্য আর ন্যায়েই মানুষের সার্থক পরিচয়। '

******

১৮ই  মার্চ ২০২৬
আমার মন্তব্যঃ  এই কবিতাটি সত্য, ন্যায় ও বিনয়ের চেতনা নিয়ে রচিত একটি কবিতা ।  নিম্নোক্ত লাইনটি 
—'ধরায় এসেছিল এক সত্য', 
অর্থাৎ সত্য চিরকালীন, চিরন্তন এবং অপরিবর্তনীয়। সত্যের কণ্ঠ দৃঢ়, শান্ত ও নির্ভীক—সে জানিয়ে দেয়, পৃথিবীর আলো, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সবই মহান সত্যের নিয়মে চলে এবং মানুষ চাইলেই তা পরিবর্তন করতে পারে না।

এরপর  গর্ব ও অহংকারের পতনের চিত্র আঁকা হয়েছে। মিথ্যার প্রাসাদ যেমন টেকসই নয়, অহংকারের মুকুটও এক সময় ধূলায় লুটিয়ে পড়ে। এমনকি ক্ষুদ্র এক মশার কাছে অহংকারী মানুষ পরাজিত হয়—এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উপমা। এখানে বোঝানো হয়েছে, অহংকার আসলে মানুষকে ক্ষুদ্র বানায় ও অপমানিত করে।

কবির মূল বার্তা, ইতিহাস নীরবে এই শিক্ষা দেয় যে, উঁচু মর্যাদা বা মহানত্ব কেবল অহংকারে পাওয়া যায় না।  বিনয়ী মানুষই প্রকৃত অর্থে মহান।  ন্যায়ের পথে থাকলে জীবন সত্যিকারের প্রাণ পায়, আলো পায়।

কবিতার শেষাংশে জুলুম বা মিথ্যার রাতের দীর্ঘতাকে অতিক্রম করে সত্যের সূর্য আবারও উদিত হবে—এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মিথ্যার অন্ধকার যতই গভীর হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়েরই জয় হয় এবং এই সত্য-ন্যায়ের মধ্যেই মানুষের আসল পরিচয় নিহিত।

কবিতাটিতে মানবজীবনের আদর্শ ও নৈতিকতার কথা বলেছেন। এখানে সত্য, ন্যায়, বিনয় ও অহংকারের চিরন্তন দ্বন্দ্ব এবং শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়ের জয়গান গাওয়া হয়েছে। ভাষা সহজ, বক্তব্য স্পষ্ট এবং নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত গভীর—যা পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
আপনার  কলমে উঠে আসা চিরন্তন মূল্যবোধ ও অনুপ্রেরণা আমাদের পথ চলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।




১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:০৮০
ডঃ আলী বলেছেনঃ 
আপনার গভীর অনুধ্যান ও হৃদয়স্পর্শী মন্তব্যটি পড়ে সত্যিই আনন্দিত হলাম। আপনি যে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে কবিতার অন্তর্নিহিত বার্তা সত্যের চিরন্তনতা, অহংকারের অনিবার্য পতন এবং বিনয়ের মহিমা,এগুলোকে বিশ্লেষণ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এখানে উল্লেখ্য ইতিহাস বলে নমরূদ ছিলেন এক অত্যাচারী শাসক, যিনি নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করতেন এবং নবী হযরত ইবরাহিম (আ.) -এর সাথে তর্কে লিপ্ত হন।নমরূদ আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে বলেছিল “আমিই জীবন দিই এবং মৃত্যু ঘটাই।” তখন হযরত ইবরাহিম (আ.) যুক্তি দিয়ে বলেন আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদয় করেন, তুমি যদি পারো পশ্চিম দিক থেকে উদয় করাও। এতে নমরূদ নির্বাক হয়ে যায়। পরবর্তীতে, তার অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাকে এক ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ধ্বংস করেন,একটি মশা তার নাকে ঢুকে তাকে অসহনীয় যন্ত্রণায় ফেলেছিল, এবং শেষ পর্যন্ত সে অপমানজনকভাবে মারা যায়।

“ক্ষুদ্র এক মশার কাছে অহংকারের পরাজয়” এই উপমাটির তাৎপর্য আপনি যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা কবিতার মর্মবাণীকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। সত্যিই, এই সামান্য চিত্রকল্পের মধ্যেই জীবনের এক গভীর দর্শন লুকিয়ে আছে মানুষ যত বড়ই ভাবুক নিজেকে, প্রকৃতির বা সত্যের সামনে সে কখনোই সর্বশক্তিমান নয়।

আপনার ব্যাখ্যায় যে বিষয়টি বিশেষভাবে প্রতিভাত হয়েছে, তা হলো সত্য ও ন্যায়ের পথ কখনো সহজ না হলেও, সেটিই শেষ পর্যন্ত আলোর পথ। আর বিনয়ই মানুষকে সেই পথে অবিচল রাখে। এই উপলব্ধি কেবল সাহিত্যিক নয়, জীবনঘনিষ্ঠ এক মূল্যবোধের প্রতিফলন।

এমন চিন্তাশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিক্রিয়া কেবল একজন সচেতন পাঠকের পক্ষেই সম্ভব। আপনার এই মনোজ্ঞ মন্তব্যটি কবিতাটির তাৎপর্যকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করেছে। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা রইল। আপনার এ ধরনের চিন্তার আলো আমাদের সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করুক।

শুভেচ্ছা রইল

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা - ফরিদ আহমেদ চৌধুরী

: কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল।  কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না।  সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে কেউ ত...