Tuesday, August 11, 2026
Friday, August 7, 2026
পুস্তক সমালোচনা
মহিলা বিষয়ক অনুষ্ঠান
– অংগনা, বাংলাদেশ বেতার,ঢাকা
পাঠক – নাজনীন তৌহিদ
রেকর্ডিং ১৬/১১/২০১১,
প্রচার ১৮/১১/২০১১
মানুষ কেবল যাপিত
জীবন নিয়েই ব্যস্ত হয়। হাস-ফাস করা জীবনেও কখনো তার মন গেয়ে ওঠে, নেচে ওঠে। নিজের ভুবনে
সে একাকী বিচরণ করতে চায় কিছুক্ষণ।এই ‘একান্ত কিছুক্ষণ’ সময়টাতে সে কোন এক নিঃস্বার্থ বন্ধুকে সাথী হিসাবে খুঁজে
নিতে পারে, যে কেবল নিজেকে বিলিয়ে দিতেই জানে। ধারণা করতে পারেন এমন বন্ধু কে? হ্যা,
আমি সেই বন্ধুটির কথা বলছিলাম – বই!
বই–
ই
আমাদের নিত্যসংগী।আমাদের বন্ধু!
বই-ই হতে পারে
নিরানন্দ জীবনের এতটুকু আনন্দের উপকরণ। আর এক্ষেত্রে সময়োপযোগী বই পারে মনের ক্ষুধা নিবারণ করতে। শ্রোতা
বন্ধুদের সবার মনের অবস্থা যেহেতু আমার অজানা,তাই নিত্যকার মতো আমার পছন্দের একটি বই
নিয়ে এলাম আজকের আলোচনায়। এটি একটি উপন্যাস।উপন্যাসটির নাম ‘জীবনের কে রাখিতে
পারে।’
লিখেছেন
ফিরোজা হারুন।
বইটি প্রকাশিত
হয়েছে মম প্রকাশনা থেকে।এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন রফিক উল্লাহ্। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা –৬০ এবং এর মূল্য
হাতের নাগালে, মাত্র ৪৫ টাকা।
বইটির ভেতরকার
বিষয়বস্তু জানবার আগে জেনে নেয়া যাক লেখকের পরিচিতি।
লেখিকা ফিরোজা
হারুনের জন্ম ময়মনসিংহ জেলার, ত্রিশাল উপজেলার, হরিরামপুর গ্রামে।লেখাপড়া প্রথমে ময়মনসিংহ
বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয় এবং কুমুদিনী কলেজ টাঙ্গাইল হতে।এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
হতে ইতিহাসে এম.এ.সম্পন্ন করেন।তারপর ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ফর উইমেন থেকে
বি.এড. ডিগ্রী অর্জন করেন।পরবর্তীতে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে সিনিয়র জিওগ্রাফি টিচার
হিসাবে শিক্ষকতা করলেও তিনি লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাঁর লেখা বেশ ক’টি উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ,
৭১ এর স্মৃতিকথা, গল্প ও প্রবন্ধ সংকলন ও শিশু–কিশোর সংকলন ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠক মহলে বেশ সাড়া
জাগিয়েছে লেখিকার প্রথম উপন্যাস ‘জীবনেরে কে রাখিতে পারে।’
ফেরা যাক এই উপন্যাসটির
বিষয়বস্তুর দিকে। এখানে দু’টি গল্প সন্নিবেশিত
হয়েছে। একটির প্রধান চরিত্র একজন নারী যিনি একজন স্ত্রী। অন্য গল্পটির প্রধান চরিত্র
একজন পুরুষ, যিনি প্রথম গল্পের নায়িকার স্বামী।লেখিকার ভাষায় গল্পের চরিত্র দু’টি কল্পনা ভিত্তিক
তবে বাস্তবতা নির্ভর।
নায়িকা নীলা সংসার
জীবনে আবদ্ধে থেকেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আবিষ্কার করে গেছে মানুষ কখনোই পরিপূর্ণ
নয়।জীবনে অনেক পাওয়ার মাঝেও থাকে না পাওয়ার হা হা–কার, যা তাকে
কুড়ে কুড়ে ছিঁড়ে ফেলে। তবে এ না পাওয়াকে যে জয় করতে পারে, সেই জয়ী । সেই-ই জীবনের সত্যিকারের
স্বাদ পায়।কল্পনা ভিত্তিক গল্প ছেড়ে যদি বাস্তব জীবনে তাকাই,তবু কি দেখব না সুখ খুঁজতে
খুঁজতে একসময় অসুখের অসুখে ভুগে জীবনের যবনিকার পতন হয় !এখানেও তাই। সুখ হাতের নাগালে
পেয়েও তাকে ছুঁতে পারেনি নীলা। এক হা হা–কার নিয়ে জীবন
শেষ হয়ে যায় তার।অন্যদিকে তার স্বামী ইলিয়াস খান স্ত্রীর প্রতি অবিচার করেননি। ভালবেসেছেন।
অথচ ভালবাসার কথা বলে তাকে প্রতারিত করতে চাননি। এই অভিব্যক্তি তার দ্বিতীয় গল্পে ফুটে
উঠেছে।
উপন্যাসে স্বামী
স্ত্রী আর সংসার জীবনের এক জটিল বিষয় ফুটে উঠেছে।যেখানে বিশ্বাস, অবিশ্বাস, মান–অভিমান, পরস্পর
বোঝাপড়া কিংবা ভালবাসা, দুঃখবোধ সব কিছুই রয়েছে, যা হয়তো কারো কারো জীবনে চরম বিপর্যয়
বয়ে আনে।তবে বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে একে জয় করাই এর মুখ্য বিষয়।গল্পের নীলা চরিত্র খুবই
বুদ্ধিদীপ্ত এক নারী চরিত্র। একটি পরিচ্ছন্ন গল্প হিসেবে পাঠক হৃদয়ে গেঁথে যাবে অনায়াসে।
হয়ত অনেকে এ গল্পের মাঝে জীবনের সমাধানও খুঁজে পাবেন। আর সে ক্ষেত্রে লেখক তার লেখনিতে
সার্থক হবেন তখনই।
-
১৩ই মে ২০২০ দুপুরের দিকে ঝুম বৃষ্টি দেখে আজ কেন জানি অবাক। যেমন বজ্রপাতের গুরু গম্ভীর শব্দ তেমন বাতাসের তোড়। বারান্দায় যেয়ে চোখ যেন ঝলসে গ...
-
https://riazhannan.blogspot.com/ **' ' আমি মানুষকে হাসাতে পারিনা,খুব হলে কাঁদাতে পারি। আমার জন্য সে মানুষটা অনেক কেঁদেছিলো।'...



