ডঃ আলী বলেছেনঃ
- (১) অপূর্ণ প্রেমের প্রতীক তিনি সেই মানুষ, যাকে সুমনা জীবনে কখনো পায়নি। তাই শেষ যাত্রায় তার উপস্থিতি অপূর্ণ আবেগের প্রতিফলন।
- (২) মৃত্যুর দূত আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় তিনি হতে পারেন সেই সত্তা, যিনি মৃত্যুর সময় আত্মাকে পথ দেখান।
- (৩) সুমনার আত্মার প্রতিফলন মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায়, তিনি সুমনার নিজের অন্তর্জগতের প্রতীক হতে পারেন।
- স্থান নার্সিংহোম -প্রতীক জীবন।
- বাসস্টপ মধ্যবর্তী -অবস্থা।
- অন্ধকার বনপথ - মৃত্যুর পরের অজানা জগত ।
**********
১৩ই মার্চ, ২০২৬ লেখক বলেছেনঃ
গল্পের গভীরে থাকা অস্তিত্ব, স্মৃতি ও অপূর্ণতার প্রতীকী অন্বেষণ, আপনি যে আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেছেন, এবং মনের গভীরতম থেকে এনে কথামালায় সজ্জিত করেছেন, তাতেই যেন আমার এই লেখার সার্থকতা নিরূপিত হয়েছে।
আমার লেখা মূলত কেউ পড়ে না। উপলব্ধি তো আরো পরের কথা। আমার ভাবনার বাস্তব, মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক স্তরকে একত্রে গেঁথে গল্পটিকে নতুন মাত্রা দেওয়ার একটা চেষ্টা আমার ছিল—আপনার মন্তব্যে সেটি স্বীকৃতি পেল। এমন পাঠক-প্রতিক্রিয়া গল্পচর্চাকে আরও গভীরে যেতে উৎসাহিত করে। এমনকি ,যে কোন লেখক, প্রফেশনাল লেখক হয়ে উঠতে পারে।
মৃত্যুযাত্রা (death journey motif) বিশ্ব সাহিত্যের এক সুপরিচিত ও অনন্য ধারার অংশ, যেখানে মৃত্যু কেবল শেষ নয়, বরং এক অন্তর্যাত্রা ও আত্মসমীক্ষার প্রতীক। এ আমারও ইদানীংকার উপলব্ধি। তিনদশক আগেও যা ছিল না। অথচ ঐ সময়ে, আমার সমসাময়িক অনেকেই তা উপলব্ধি করতো। শুধু আমি -ই পারতাম না। গত তিনি দশক কিন্তু আমার ভাবনা জগৎ একদম shut down ছিল। কিছু ভাবতাম না। দু’চারটা লেখা মাঝে মধ্যে লিখতাম । আর প্রযুক্তি নিয়ে কিছু ভাবনা মাঝে মধ্যে আসতো। 'আমাদের প্রযুক্তি' ফোরামে লেখাগুলো দিতাম। সব ওখানে ছিল । এখন তো ফোরামটা উধাও।
তবে সেগুলো জীবনধর্মী অবশ্যই ছিল না। আমার সম্পাদিত ম্যগাজিনের ৩৭ টি সংখ্যার দু’ তিনটি বাদে কোথাও আমার কোন লেখা ছিল না।
আর এখন? সুফি দর্শনের আধ্যাত্মিকতা বা মৃত্যুচেতনা আমার সব লেখায় কোন না কোন ভাবে এসে যায়।
বিশেষ করে গত বছরের ১৭ই অক্টোবর থেকে আমার মাঝে একটা চিন্তা বেশ জেঁকে বসেছে । আর তা হলো, ‘আমার আর বেশী সময় নেই হাতে। আমার সব কথা লিখে যেতে হবে।’ আর এ থেকেই আবারো, তিন দশর পর, হাতে যেন লেখার ঝর্ণা নেমেছে। [মান যাই-ই হোক]
বিশ্ব সাহিত্যের প্রসংগে যখন এমিলি ডিকিনসন-এর কবিতায় মৃত্যুকে সহযাত্রী এবং টলস্টয়ের গল্পে চরিত্রের মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আপনি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন, সেই ধারাবাহিকতার আলোকে এ গল্পের চরিত্রের মৃত্যুর প্রতীকী যাত্রার উপস্থাপন, আমার অজান্তেই লেখাটিকে একটি সার্বজনীনতা দিয়েছে। আপনি মেনশান্ না করলে, আমি এভাবে ব্যাপারটা উপলব্ধি করতাম না।
আসলে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মানুষের অস্তিত্ব, মৃত্যু ও বেঁচে থাকার অর্থ —এই প্রশ্নগুলো সাহিত্যে বারবার ফিরে আসে এবং গল্পটিকে সেই বৃহত্তর সাহিত্যিক ধারার সঙ্গে যুক্ত করে। তাই একজন পাঠক বলছিলেন বা কারোর কারোর কাছে মনে হয়, এমন গল্প কতই না পড়েছি।
শেষ মুহূর্তে সুমনার মনের মানুষ তার গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল হয়ে আসে তার ‘জীবন তরী’ বেয়ে দিতে। সে ব্যক্তি তার গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল, নাকি এ জন্মের, স্বয়ং তার মনের মানুষ,তা সে জানে না। লেখকও কিন্তু জানে না!
কিন্তু অপূর্ণ অনুভূতি তো কখনো পুরোপুরি মুছে যায় না। অনেক terminally ill patient রা তাদের কেয়ার- গিভারকে প্রায়শঃই বলেন,‘আমার অপূর্ণ অনুভূতি কেন আমি তখন প্রকাশ করলাম না?’আসলে সত্যিই, না-পাওয়ার যন্ত্রণা কখনো পুরোপুরি মুছে যায় না —তারা জীবনের শেষ মুহূর্তেও নীরব সঙ্গী হয়ে ফিরে আসে। সুমনার চরিত্রের মধ্য দিয়ে সেই চিরন্তন মানবিক অনুভব, গল্পটিতে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। আর তার সাথে আপনার সংবেদনশীল বিশ্লেষণ এই লেখার মর্মবাণীকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। মনে হয় লেখাটিতে কিছু হলেও সফল হয়েছি।
এ লেখায় সুমনার শেষ যাত্রায় নীরব সঙ্গী হয়ে ফিরে আসে তার মনের মানুষের রূপ ধরে তার death angel.জীবনের শেষ মুহূর্তে, সুমনার এই বিস্মিত হবার সময়টুকুতেই, তার ট্রাঞ্জিশান হয়ে যায়,খুব প্রশান্তি নিয়ে। লেখাটির মধ্য দিয়ে দেখিয়েছি তার শেষ সময়, সে টের না পেলেও ,তার সারা জীবনের সকল অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলো, এক নিমেষে তার সামনে চলে আসে। terminally ill -দের ক্ষেত্রেও তাই হয় শুনেছি। এই মানসিক অবস্থাটি যে আমি লেখায় প্রকাশ করতে পেরেছি, তা আপনার আলোচয়ায় এবার স্পষ্ট।
তাই এমন পাঠ-প্রতিক্রিয়া যে কোন লেখকের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অনুপ্রেরণা। আর আমার জন্য খোদার তরফ থেকে আপনার মাধ্যমে একটা আশীর্বাদ। আপনার প্রতি রইলো আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
.jpg)













