প্রাচীন পুরাণ অনুযায়ী “বাধ্য স্ত্রী” বা অনুগত স্ত্রীর ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক ছিল। হিন্দু পুরাণ, বিশেষ করে মনুস্মৃতি, রামায়ণ, মহাভারত, এবং পুরাণসমূহে এমন নারীর প্রশংসা করা হয়েছে যিনি স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত, শ্রদ্ধাশীল, ধর্মপরায়ণা ও কর্তব্যনিষ্ঠা প্রদর্শন করেন।
‘বাধ্য স্ত্রী’ মানে কী (পুরাণ অনুসারে):
প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে “বাধ্য স্ত্রী” বলতে বোঝায় এমন নারী— যিনি স্বামীকে ঈশ্বরের সমতুল্য সম্মান দেন, তার আদেশ মান্য করেন, এবং সংসার ও ধর্ম রক্ষার জন্য নিজের ইচ্ছা ও স্বার্থ ত্যাগ করেন।
মনুস্মৃতিতে স্ত্রীর কর্তব্যঃ
“যে নারী তার স্বামীকে দেবতার মতো সম্মান করে, সে এই জীবনেই স্বর্গ লাভ করে।”
— (মনুস্মৃতি, অধ্যায় ৫, শ্লোক ১৫৫–১৬০)
এখানে স্ত্রীকে বলা হয়েছে, স্বামীই তার জন্য “পতি-দেবতা”। তাকে শ্রদ্ধা করা, যত্ন নেওয়া, ও সেবা করা — স্ত্রীর ধর্ম হিসেবে ধরা হয়েছে।
রামায়ণে উদাহরণঃ
সীতা দেবী বাধ্য স্ত্রীর সর্বোত্তম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তিনি রামচন্দ্রের আদেশে বনবাসে গিয়েছিলেন, সব কষ্ট সহ্য করেও স্বামীর প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত ছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল “পতিব্রতা নায়িকা” — অর্থাৎ স্বামীভক্তা স্ত্রী।
মহাভারতে দৃষ্টান্তঃ
সত্যবতী, দময়ন্তী, সাবিত্রী প্রমুখ নারীদের কাহিনিতেও স্ত্রীর আনুগত্য, সতীত্ব, ও আত্মত্যাগের মহান উদাহরণ পাওয়া যায়। বিশেষত, সাবিত্রী তার স্বামী সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য যমের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন — যা এক “আদর্শ স্ত্রী”র প্রতীক হয়ে আছে।
পুরাণে বাধ্য স্ত্রীর গুণাবলিঃ
সংসার ও ধর্ম রক্ষায় নিবেদিত থাকা।
স্বামীর আনন্দ ও দুঃখে সমানভাবে পাশে থাকা।
নিজের ইচ্ছার উপরে স্বামীর কর্তব্য ও ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া।
সতীত্ব, নম্রতা ও ধৈর্য ধারণ করা।
সার সংক্ষেপঃ
প্রাচীন পুরাণে “বাধ্য স্ত্রী” হলো — একজন সতী, পতিব্রতা ও ধর্মনিষ্ঠ নারী, যিনি স্বামীর প্রতি অবিচল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শন করেন।
.jpg)
No comments:
Post a Comment