Tuesday, December 30, 2025

অমিত্রার চিঠি

সাহিত্য পর্যালোচনা
ডঃ এম এ আলী

অমিত্রার চিঠিটি  পড়লাম । চিঠিতে মিত্রা সুন্দর করে সুমনের সাথে তার যোগাযোগ কাহিনী থেকে মৃত্যুপর্যন্ত বিষয়াবলি কল্পনার প্রতিমূর্তিতে সুস্দর করে এঁকেছে । চিত্রা তার সকল জাগতিক কাজ ফেলে রেখে শুধুমাত্র সুমনের কথা ভেবে চিরন্তন আনন্দ ও প্রেমের সুধা পান করার ধ্যানে মগ্ন , যেখানে চেতনা বেদনাবন্ধন ভুলে গিয়ে শুধু প্রেম আর সৌন্দর্যে মগ্ন থাকা যায়। জাগতিক বন্ধনমুক্তির চিন্তায় দেখা যায় মিত্রার যেন আজ কোনো কাজ নয়, ছন্দ, বন্ধ, গ্রন্থ, বা গান সবকিছু ভুলে যেতে হবে।

কল্পনার মিলনে ব্যস্ত সে, সাধন ধন মন মানস সবকিছু দিয়েই অমিত্রা কল্পনায় শুধু সুমনকেই ভাবছে।
সে চায় শুধু একবার প্রিয়তমের কাছে বসতে, শুধু কূজন গুঞ্জন করতে, সন্ধ্যার সোনালি কিরণকে মদিরা হিসেবে পান করতে।যতক্ষণ না অন্তরের শিরা উপশিরা লাবণ্যে ভরে উঠছে, যতক্ষণ না চেতনার বন্ধন টুটে যাচ্ছে, ততক্ষণ এই নীরব আনন্দ উপভোগ করতে চাচ্ছে এ যেন তার চেতনার মুক্তি। লেখাটিতে সুন্দরভাবে প্রেম, সৌন্দর্য, এবং সৃষ্টির এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে যেখানে অমিত্রা তাঁর কল্পনার জগৎকে বাস্তবতার ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে চেয়েছে।

এই পোস্টের লেখাটিতে অমিত্রার ভাবনা আর চিন্তা গুলিকে লেখকের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে চিহ্নিত করে যাচ্ছে বলে অনুভুত হচ্ছে। সোনার তরীতে থাকা রবীন্দ্র নাথের মানসসুন্দরী কবিতার চরণের উদ্ধৃতি লেখটিকে একটি উচ্চমাত্রা দিয়েছে ।

আমিতো ইয়র্কশায়ারের কাছিকাছিতেই থাকছি । আত্মীয় স্বজন থাকার কারণে মনট্রিয়ল এলাকায় মাঝে মধ্যে যেতে হয় । খোদা না করুন সেখানে চেরীফল বাগানের কাছে যেন চিরনিবাস হয়ে না যায়, কেননা সেখানে এমন কেও নেই যে মিত্রার মত করে চিঠি লিখবে।

********

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:২০

লেখক বলেছেন: আপনার এই সুগভীর ও হৃদয়স্পর্শী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অমিত্রার মনোজগতকে আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। 
"সাধন ধন মন মানস সবকিছু দিয়েই" - এই কল্পনার জগতে বিভোর হওয়ার যে আধ্যাত্মিক মাত্রা, সেটা আপনি নিখুঁতভাবে ধরতে পেরেছেন।
অমিত্রা শুধু প্রেমে নয়, সে তার চেতনার মুক্তি খুঁজছে - এই উপলব্ধিটি গল্পের গভীরতম স্তর।
রবীন্দ্রনাথের "মানসসুন্দরী" কবিতার উদ্ধৃতি নিয়ে আপনার মন্তব্য আমাকে আনন্দিত করেছে। সত্যিই, সেই চরণগুলো অমিত্রার ভাবনার সাথে এক অপূর্ব সংযোগ তৈরি করেছে।

রবিঠাকুরের সমগ্র রচনাতে এইটুকু অংশ কেন জানি আমার একদম মুখস্থ। কারণ, জানি না। যেহেতু আমার কোন কিছু মুখস্থ হয়না।আর আপনার শেষ মন্তব্যটি হাসিয়ে দিলো! ইয়র্কশায়ার থেকে মন্ট্রিয়ল - বেশ ভালো দূরত্ব তো! চেরিফল বাগানের কাছে চিরনিবাস নিয়ে আপনার রসিকতা চমৎকার।
তবে মিত্রার মতো চিঠি লেখার মানুষ দুর্লভ হলেও, হয়তো সেখানে অন্য কোনো সুন্দর গল্প অপেক্ষা করছে! 
আপনার মতো সংবেদনশীল পাঠক যখন এভাবে লেখার প্রতিটি স্তর উন্মোচন করেন, তখন লেখক হিসেবে মনে হয় - লেখা সার্থক হয়েছে। আপনার জন্য শুভকামনা। মন্ট্রিয়লে যাওয়ার সময় সাবধানে থাকবেন - চেরিফল বাগান বড়ই মোহময়!
অনেক শুভেচ্ছা রইলো।

Monday, December 29, 2025

বেঁচে থাকার শুরু


২৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:০৪১

 সাহিত্য পর্যালোচনা

ডঃ এম এ আলী

জানালার পাশে বসে ভাবছিল কিভাবে অবলবাসাহীন জীবন কাটিয়ে দিল সুবর্ণা ।সেই কিশোরী বয়স থেকেই কানায় কানায় ভরে উঠেছিল সৌন্দর্য। কাটা কাটা চেহারায় চিবুকের ধার, বাদামী চোখ , বাদামামী লাল চুলের বাঁধনহারা এলোমেলো ভাব , অপ্ররিরোধ্য কামনায় ভরা একটি ইনোসেন্ট মন , যে কিনা আবুঝ , চঞ্চলা, মোহনীয় সৌন্দর্য স্কুলে থাকতে ইঙ্গিত দিতে শুরু করে তার শরীরে ............বেঁচে থাকার শুরু । মৃত্যুর সমাপ্তি ।

আপাতদৃষ্টিতে সুবর্ণা একটি জীবনকাহিনী, কিন্তু সেইটুকুই এই গল্পের শেষ কথা নয়। সুবর্ণা একটি বিশেষ কালের আলেখ্য। যে কাল সদ্যবিগত, যে কাল হয়তো বা আজও সমাজের এখানে সেখানে তার ছায়া ফেলে রেখেছে। সুবর্ণা সেই বন্ধন-জর্জরিত কালের মুক্তিকামী আত্মাৱ ব্যাকুল যন্ত্রণার প্রতীক।

আর একটি কথা মনে পড়ছে এই গল্পটির সঙ্গে কারো জীআনের একটি যোগসূত্র আছে। সে যোগসূত্র কাহিনীর প্রয়োজনে নয়, একটি চরিত্রকে পরবতী কালের চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনে।সমাজ বিজ্ঞানীরা লিখে রাখেন সমাজ-বিবর্তনের ইতিহাস, আমি এই কাহিনীর মধ্যে সেই বিবর্তনের একটি রেখাঙ্কনের প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি ।

মানব মনের মানব জীবনের সেকাল নিয়ে তর্ক তো চিরকালের, কিন্তু কেমন করে চিহ্নিত করা যায়। সেই কালকে? 

একএকটা কালের আয়ু শেষ হলেই কি এক-একবার যবনিকা পড়ে? যেমন যবনিকা পড়ে নাট্যমঞ্চে?  না। যবনিকার অবকাশ কোথায়?  অবিচ্ছিন্ন স্রোত। তবু জীবনের ভাঙ্গা গড়া চলছেই । পারিবারিক জীবন মানুষের রীতিনীতি, চলন-বিলন, এরাই ধরে রাখে মানব জীবনের এক একটা টুকরোকে, ইতিহাস নাম দেয় মানব জীবনের কালপরিক্রমা।

কিন্তু কালকে অতিক্রম করতেও থাকে বৈকি কেউ কেউ, নইলে কারা এগিয়ে দেবে সেই প্রবহমাণ ধারাকে? সে ধারা মাঝে মাঝেই স্তিমিত হয়ে যায়, নিস্তরঙ্গ হয়ে যায়। তবু এরা বর্তমানের পূজো কদাচিৎ পায়, এরা লাঞ্ছিত হয়, উপহসিত হয়, বিরক্ত-ভাজন হয়।এদের জন্যে থাকে কাটার মুকুট।এদের জন্যে সমালোচনার জ্বালাপালা ।

তবু এরা বেঁচে থাকে । হয়তো প্রকৃতির প্রয়োজনেই বাঁচে । তবে কোথা থেকে যে জীবনের গতিময়তা পায় তা তারা নিজেরাই  জানেনা । হয়তবা তাদের জীবনের গতিময়তা আসে রাজরক্তের নীল আভিজাত্য থেকে, কিংবা বিদ্যা বৈভবের প্রতিষ্ঠিত স্তর থেকে। আসে নামগোত্রহীন মূক মানবগোষ্ঠীর মধ্য থেকে, আসে আরো কোন ঘন অন্ধকার থেকে। তাদের অভ্যুদয় হয়তো বা রাজপথের বিস্তৃতিতে, হয়তো বা অন্তঃপুরের সঙ্কীর্ণতায়। কিন্তু সবাই কি সফল হয়? সবাইয়েরই কি হাতিয়ার এক? না।

প্রকৃতি অকৃপন তাই কাউকে পাঠায় ধারালো তলওয়ার হাতে দিয়ে, কাউকে পাঠায় ধাঁরালো কলম হাতে দিয়ে , কাউকে পাঠায় ভোতা বল্লম হাতে দিয়ে । তাই কেউ সফল সার্থক, কেউ অসফল ব্যর্থ। তবু প্রকৃতির রাজ্যে জীবন যুদ্ধে কোনো কিছুই হয়তো ব্যর্থ নয়। আপাত-ব্যর্থতার গ্লানি হয়তো পরবর্তীকালের জন্য সঞ্চিত করে রাখে শক্তিসাহস।

সুবর্ণা এসব কথা জানতো না। সুবর্ণা তার মার করুনগাথার সম্বল নিয়ে সংসারে নেমেছিল!তাই সে জেনেছিল সে কেবল তার বৈচিত্রময় জীবনের গ্লানির বোঝা নিয়েই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সংগ্রামে একাই লড়বে নীজের প্রেমেই নীজে মঝবে, যেখান থেকে হবে বেঁচে থাকার শুরু। মৃত্যুর সমাপ্তি সে তো ভবিতব্যের হাতে!!!

সুবর্ণার অভিনব জীবন দর্শন নিয়ে গল্পটি তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গঠনশৈলি নিয়ে চমতকার হয়েছে ।

পাঠে মুগ্ধ ।


শুভেচ্ছা রইল

**********

৩০শে ডিসেম্বর
লেখকের মন্তব্যঃ আপনার এই গভীর ও চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে গল্পের মূল দর্শনটি ধরতে পেরেছেন। জীবনের প্রবহমান ধারায় কেউ কেউ সময়কে অতিক্রম করে এগিয়ে যান, যদিও তাদের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। আপনার কথায় যেমন বলেছেন, "এদের জন্যে থাকে কাটার মুকুট" - এই বাস্তবতাই সুবর্ণার জীবনের মূল সংগ্রাম।

আসলেই প্রকৃতি প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন হাতিয়ার দিয়ে পাঠায় । সুবর্ণা তার চলার পথে যে শক্তি সঞ্চয় করেছে, সেটাই  তার হাতিয়ার। আপাত-ব্যর্থতার মধ্যেও যে সাহস ও শক্তি লুকিয়ে থাকে, সুবর্ণার জীবন তারই প্রমাণ। কিন্তু বাস্তবে ভগ্ন হৃদয়ের সুবর্ণারা শক্ত হতে পারে না, বা হতে চায় না। আমার কাজ হলো তাদের অনুপ্রাণিত করা। উৎসাহ যোগানো। তারা এক কদম আগায় তো দু'কদম পিছিয়ে পড়ে। তারপরও তাদের জানতে দেই যে, তাদের হয়ে কথা বলার কেউ আছে।

আপনার এই সুচিন্তিত পাঠ ও মুগ্ধতা লেখক হিসেবে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনি শুধু গল্পটি পড়েননি, গল্পের আত্মাকে অনুভব করেছেন।

আমার প্রফেশনাল ট্রেনিং নাই লেখালেখির । তারপরও লেখার গঠনশৈলী তে আপনার কাছে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি যে, এটাই আমার সাফল্য।

আপনার মতো পাঠকের জন্যই লেখা সার্থক হয়।

সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।

Sunday, December 28, 2025

প্রার্থনা - The Prayer

 ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৩৭০

সাহিত্য পর্যালোচনা
ডঃ এম এ আলী 

লেখাটি আজ হাতে সময় নিয়ে পড়লাম । ঝর্ণার করুণ গাথাময় জীবন অভিজ্ঞতায়
সঞ্চারিত তার প্রার্থনার কথাগুলো হদয়কে ছুঁয়ে যায় । জীবনের এই লগনে এসে
ঝর্ণার মত এমন আবেগময়ী প্রার্থনা হয়ত করতে পারবনা তবু লেখাটির কল্যানে
হৃদয়মুলে বিধাতার প্রতি যে প্রার্থনা গীতি উঠেছে বেজে তা এখানে ছোটকরে
লিখে গেলাম ।



প্রার্থনা
হে পরম করুণাময় ! তোমার বন্দনা করি।
তুমিই ইষ্ট, হৃদয়-আনন্দ, দিব্য সৃজনকারী
বৈশিষ্ট্যের তুমি পুরুষকারী, সমষ্টির জীবন বুদ্ধিকারী
একাচারী সর্বদাই তুমি!
সৃষ্টির উৎস তুমি, তুমিই ঈশ্বর, ব্যক্ত পরম আশ্রয়,
নিখিল জগত ও জীবনে, জীবন তরঙ্গ তোমাতে স্পন্দিত
ব্যক্ত-অব্যক্তের স্বরূপ তুমি, পরম আরাধ্য,
সৃষ্টির সর্বত্রই তোমার অস্তিত্ব !
শাশ্বত তুমি, তুমিই বর্ণমান!

ব্যক্তি দশপ্রাণ গৃহ সমাজ রাষ্ট্রের হবে উন্নয়ন
যখন যাজন ইষ্টভূতি স্বধর্মানীর তাই কর প্রবর্ধন,
প্রাচ্য পাশ্চাত্য নিয়ন্ত্রণে অনুশাসন দাও বর্ণাশ্রমের
আধ্যপথই তুমি সর্বকালের!

সকল শিল্প বিজ্ঞান যুক্ত পূর্ণতায় তুমিই সর্ব প্রাচীন
শ্রেষ্ঠ হতেও চির শ্রেষ্ঠতর!
ধর্মের বাণীতে প্রকাশ, প্রজ্ঞাবলে আবর্তিত জগতের বুকে
সকল বাদ্যের মোহহারী, সর্বধর্মের স্থাপনকারী
সর্বতোভাবে সকলের ইচ্ছা পুরণে রত ইষ্ট এক ও অদ্বিতীয়,
চিরঞ্জিব তুমিই সর্বোত্তম!

আরাধনাকারীর প্রেমে উচ্ছল, আশেকের মন মুগ্ধকারী,
নবীন প্রবীণ আধ্যত্ম্যাকার, বিচিত্র লীলার প্রকাশ তোমার,
বিশ্বমিলন যজ্ঞের তুমি ‌একক বেদ দাতা
বিভিন্ন পথের তুমিই চালক নুরের তেজতায়!

রণতাণ্ডবের হিংসায় কাতর পীড়িত বিচ্ছিন্ন ভুবনে
পরিব্যাপ্ত শ্রেষ্ঠ আচার পরিপূর্ণ করে চরিধার,
জীবনবৃদ্ধিই লক্ষ্য তোমার, মিত্র-অমিত্রেরও হও আপনার
উপসনার তরে তুমি হে মহান!

নমি আমি হে বিশ্বময়ী হে প্রিয়! হে পরম!
করুণাময় তুমি , তবে পাপীর তরে ভয়ালও চরম!
বাধ্য অবাধ্য ক্ষমা করে সকলেরে চালাও সত্যপথে
এই মোর কামনা এই মোর প্রার্থনা তব সমীপে।

শুভেচ্ছা রইল 
******
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:০৩০
লেখক বলেছেন: অসাধারণ কবিতাখানি।
লেখাটির সার্থকথা এখানেই , আপনার সুন্দর কবিতাটি।

জল পড়ে পাতা নড়ে -ফিরোজা হারুন

জল আর পাতা মিলে দুজনে সুজন, ছন্দের হাত ধরে দাঁড়ালো দু’জন। ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে পাতায় পাতায় নৃত্যের তালে তালে পাতা দোল খায়। বৃষ্টির ধারা নামে ব...